ফ্রাঙ্কফুটের ক্রিসমাস মার্কেটঃ একটি আইকনিক মডেল/Christmas Market in Frankfurt

ইউরোপের অন্যতম বড় আর পুরাতন ক্রিসমাস মার্কেটে ঢুকতে ঢুকতে আমার মনেও উৎসব উৎসব একটি অামেজ চলে এলো। কোথায়? জার্মানীর ফ্রাঙ্কফুটে! উইন্টারে এখানে বিকাল ৫ টার ভেতরেই সন্ধ্যা নামে। সন্ধ্যার পরেই যেন পুরো জায়গা জুড়ে জমজমাট ভাব জমকালো পরিবেশে আরও বেশি করে জমে ওঠে! দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, এরা সারা বছর এই সময়টার জন্যই অপেক্ষা করে থাকে।  
 
প্রচন্ড ঠান্ডার ভেতর  গ্লওয়াইনের (glühwein) গ্লাস হাতে সবার অাড্ডা যেন মনে করিয়ে দেয় তাদের সারা বছরের কর্মব্যস্ততাকে; ক্লান্তি কিংবা বছর শেষে যেন  নতুন আরেকটি বছরকে কর্মব্যন্ততায় ভরিয়ে তোলার প্রস্তুতি! বেশিরভাগই যেন অফিস ফেরতদের অাড্ডা, অফিস থেকে বের হয়ে হয়তো বন্ধুদের সাথে একটু ঢু মেরে আড্ডা দেয়া, পুরাতন স্মৃতিকে মনে করা অথবা ছোট্ট সন্তানদের সাথে মা-বাবাদেরও ছোট্ট হয়ে ওঠার এক উৎসবমুখর জায়গা। এখানে ছোটদের জন্য রাইডের সাথে সাথে আবার বড়দের জন্যও রাইড আছে সন্তানদের নিয়ে একসাথে অানন্দ করার জন্য। এই বুডো বয়সেও আমার তো অানন্দের কমতি নেই যখন ছেলের সাথে রাইডে উঠছি,ঘুরছি।এত ভীড়ের মাঝে ছেলে সঙ্গে নিয়ে মানুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলাও কঠিনেই বটে! নিজেদের প্রতি বছরের স্বকীয়তায় যেন অন্য সব ক্রিসমাস মার্কেটের কাছে একটি আইকনিক মডেল হয়ে উঠেছে ফ্রাঙ্কফুটের এই মার্কেটটি।
 
এই স্ট্রীট মার্কেটে অসংখ্য কাঠের কুঁড়েঘর, এই  কুঁড়েঘর গুলোই স্টল। টুইংকল লাইট, আঞ্চলিক খাবার, ক্রিসমাস ট্রিঙ্কস  সজ্জাই যেন একে সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয় করেছে! ক্রিসমাসের চার সপ্তাহ আগে শুরু হয় এবং ক্রিসমাসের আগের দিনগুলি পর্যন্ত চলতে থাকে এই আনন্দ। এটি কিন্তু কোন সাধারণ ইভেন্ট নয়, এটি প্রথম শুরু হয়েছিল ১৩৯৩ সালে। এর অনেক ঐতিহাসিক মূল্যও রয়েছে; যেমনঃ ১৪৯৮ সালে অত্যন্ত জাকজমকটপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হেসের জমিদার বা ল্যান্ডগ্রেভ বিয়ে করেন প্যালাতিন্টের ইলেক্ট্রোরাল প্রিন্সের মেয়েকে; সে এক বিশাল উৎসবই ছিল বটে!! তবে ক্রিসমাস ট্রী সেসময়কার মার্কেটের সজ্জার অংশ ছিল না। ঊনবিংশ শতাব্দিীর প্রথম দিকেই এই ট্রী ফ্রাঙ্কফুর্ট ক্রিসমাস মার্কেটের একটি আলংকারিক উপাদান হয়ে ওঠে।
 
মার্কেটের কেন্দ্রে যীশুর জন্ম মুহুর্তের একফ্রাঙ্কফুটের ক্রিসমাস মার্কেট3টি প্রতিকৃতি যেন উৎসবের ঐতিহাসিক মূল্যকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। শিশু, বৃদ্ধ সবাই ভীড় করে যেন উদযাপন করছে শিশু যীশুর আসার মুহুর্তটি।যখন আপনি ঢুকবেন, তখন আপনাকে বেকড আপেল, রোস্টিং চেস্টনাট, নতুন বানানো তাজা জিনজার কুকি এবং গ্লওয়াইনের সুস্বাদু সুগন্ধ যেন আপনাকে স্বাগত জানাবে।গ্লওয়াইনের বিশেষত্বই হলো এটি গরম ও মশলাযুক্ত ভাবে পরিবেশন করা হয়ে থাকে।Zwetschgenmännle ( শুকনো পাম দিয়ে তৈরী সজ্জার জিনিস), Nussknacker ( বাদামের তৈরী নানা ধরনের ক্রাকার), Gebrannte Mandeln (মিষ্টি ভাজা আলমন্ড), ট্রাডিশনাল ক্রিসমাস কুকিজ যেমন Lebkuchen এবং Magenbrot ষ্টলগুলো ভরে রয়েছে। 
 
যীশুর জন্মদিনের আনন্দ যেন মাস জুড়ে সবার মাঝে ছড়িয়ে যায় এই ক্রিসমাস মার্কেটের মধ্য দিয়ে; এই অানন্দ অমলিন থাকুক নতুন বছরেও সবার মাঝে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Create a website or blog at WordPress.com

Up ↑

%d bloggers like this: