বাবা দিবসের শুভেচ্ছা আর ভালবাসা

ছোটবেলায় আমাদের বন্ধুদের ভেতর শুধু আমার আর ঐশীর বাবা ক্যাম্পাসে থাকতো না। দুজনেই চাকরী সূত্রে নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতেন। আমাদের দুজনের বাবাদের নিয়ে মানুষের কৌতুহলের সীমা ছিল না। তখন ছোট ছিলাম, আমাদের বন্ধুরা জানতে চাইতো আমাদের বাবা কোথায়!! আমার তো মনে আছে, ক্যাম্পসের অনেক মানুষই আমার কাছ থেকে সেসময় খবর বের করার চেষ্টা করতেন যে, সত্যিই আমার বাবা আছে তো? আমাদের যোগাযোগ আছে তো?

মানে বিষয়টা এমন ছিল যে, কারও বাবা মারা গিয়েছেন বলে নেই সেটা গ্রহনীয়; কিন্তু কারও বাবা বেঁচে থেকে তাদের সাথে থাকেন না সেটা কেউ যেন মেনেই নিতে পারতেন না/পারেন না!!! আমার এখনও মনে পড়ে আমার আর ঐশীর কাছে আমাদের বাবার গল্প প্রায়ই শুনতে চাইতো। আমরা এমন করে বলতাম যেন আমাদের বাবারা সুপার হিরো!!! একবার আব্বু ক্যাম্পাসে আসায় তাকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম প্রমাণ করার জন্য যে আমার আসলেই বাবা আছে, সেটা রূপকথার গল্প নয়!! স্কুলের সব স্টাফ, আমার ফ্রেন্ডরা সবাই আব্বুকে দেখতে গিয়েছিল। দৃশ্যটা এখনও মনে আছে, আব্বু রাস্তার ওপারে আর স্কুলের সামনের গেটে ভিড় করে সবাই দাঁড়িয়ে!!!!

তো প্যাচালের উদ্দেশ্য হলো, জীবিত বাবাকে যে মায়ের পাশে, সন্তানের পাশে ভিজ্যুয়ালি এক্সিস্ট করতে হয়, সেটা আমি সেই শিশুকালেই হাতেকলমে শিখেছিলাম এভাবে!!

আমি যদি রাত বারোটায় বলতাম যে, এখন একটা আইসক্রীম খেলে ভাল হতো, আব্বু তখনই সেটা খুঁজতে বের হতো। আমার প্রিয় সকল খাবার রান্নার পরে যখন বলতাম যে, আব্বু এগুলা খাবো না, চাইনীজে গিয়ে খাবো, সেটাই হতো। মানে এই ভদ্রলোক কোন কিছুতেই আমাকে ‘না’ বলতে পারতেন না!! বকা দিবে বলে হুমকী দিতেন, এটুকুই! যদিও তাঁকে তাঁর পরিবারের সবাই সেই ব্রিটিশকাল থেকেই ভয় পেত বলেই বহুবার গপ্প শুনেছি। আমার জন্য সেটা ছিল মিথ। তো বিষয় হলো গিয়ে, এভাবে ‘হ্যাঁ’ বললে সেটা মায়েদের জন্য কিন্তু বিপদ!! কারণ দিনশেষে তখন মায়েরা ভিলেন হয়ে ওঠে (কারণ মায়েদেরকেই বেশিরভাগ সময় সন্তানকে সামলাতে হয়, মায়েরা অবধারিতভাবেই সকল বিষয়ে হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলাতে পারেনা), আর বাবারা সুপার হিরো!!

যাক, আমার অভিজ্ঞতায় বলে, বাবা হওয়া একটা কঠিন ব্যাপার। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, আপনাকে দেখেই আপনার সন্তান শিখবে, আপনার দেয়া উপদেশ তার মনে থাকবে না, আপনি তার সামনে কি করলেন সেটাই তার মাথায় থাকবে। তাই সকল শুদ্ধ অভ্যাস চর্চা করুন, শুদ্ধতম মানুষ হয়ে উঠতে সন্তানকে সাহায্য করুন….. দিনশেষে যেন কোন মাকেই শুনতে না হয় যে, ‘তুমি আমাকে নিষেধ করছো, কই আব্বু তো এটা করে!’

তো আসুন সবাই জয়ধ্বনি দেই…….. আব্বুজী কি জয়!!!
সকল বাবাদের জন্য শুভ কামনা…..
হ্যাপী ফাদার‘স ডে……

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Create a website or blog at WordPress.com

Up ↑

%d bloggers like this: