‘ধর্ষণ অপরাধ’: এই মূলমন্ত্রে আগে দীক্ষা নিন

১.

আমি জীবনে প্রথমবার ‘ধর্ষণ’ বিষয়টি নিয়ে সম্যক জ্ঞান পেয়েছিলাম ১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মানিক বিরোধী আন্দোলনের সময়। তখন আমার বয়স খুবই অল্প। প্রতিদিনের মিটিং মিছিল আমাকে কৌতুহলী করেছিল কি? না, মানুষের সংখ্যা আমাকে কৌতুহলী করেছিল। হাতে গোনা কয়েকজন প্রথমে প্রতিবাদ শুরু করেছিল। আমার মনে আছে, ছাত্রী হলের মেয়েদের রীতিমতো কাউন্সেলিং করতে হয়েছিল। কেন? তিনটি কারণে। প্রথমত, ‘ধর্ষণ’ বিষয়টি যে আসলে কতটা খারাপ কাজ, অন্যায় কাজ, যার সাথে করা হয় তার জন্য কতটা কষ্টকর, ক্ষতিকর ও অপমানজনক ইত্যাদি বোঝানোর জন্য; দ্বিতীয়ত, সবাই এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করা তো দূরে থাক, শোনাকেও লজ্জার মনে করতো। তো তাদেরকে বোঝানো যে, ধর্ষণ করা একটা অপরাধ, ভুক্তভোগীর জন্য কোন লজ্জা নয়। তৃতীয়ত, অপরাধের বিরুদ্ধে লড়তে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। প্রচলিত ধ্যান ধারনা ভেঙ্গে মানুষকে প্রতিবাদ করতে সাহসী করার এই আন্দোলন ছিল অনেক কঠিন। তো কৌতুহলী হবার বিষয়ে ফিরি, প্রথমে প্রতিবাদীর সংখ্যা হাতে গোনা ছিল, মিছিলের আওয়াজ শুরুতেই শেষ হতো। কিন্তু এই আন্দোলনই একসময় অ-রাজনৈতিক সাধারণ স্রোতে পরিণত হয়েছিল। আমি অবাক হয়ে ভাবতাম, কি ধৈর্য্য যে, এত বাধাঁ দেখেও এরা কেউ হটে যাচ্ছে না!  এই ঘটনায় প্রতিবাদের ফলে কি ঘটলো জানেন? জাহাঙ্গীরনগরের সকল মেয়ে শিক্ষার্থীদের চিরস্থায়ী ‘বদনাম’ রটে গেল। সেসময় অনেক মেয়ে শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়েরা তাদের ক্যাম্পাস সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, অনেকে মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ভাবছেন সবাই শুধুমাত্র মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই কাজ করেছিলেন? নাহ। মেয়ে লজ্জার মাথা খেয়ে প্রতিবাদ করতে যাচ্ছে, বেয়াদপ হয়ে যাচ্ছে, কি সব্বনাশের কথা!!! 

আজও আমি কৌতুহলী হই ভেবে যে, আজ ২০ বছর পরেও এই অবস্থার কোন উন্নতি হলো না!! প্রতিবাদ করার জন্য এখনও আমাদের কাউন্সেলিং এর প্রয়োজন হয়, বরং আমি বলবো আগে তাও বুঝতো, এখন যেন বুঝেও আমরা বুঝি না। আজকাল আমি কিছু ভাবতে চাই না। পেপার পড়া আমি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছি। আমি যখন নারীর যৌন হয়রানি বিষয়ক গবেষনা প্রকল্পে ছিলাম। তখন আমি রীতিমতো ট্রমায় ছিলাম বাংলাদেশের মেয়েদের চামড়াগুলো দেখতে দেখতে। মাঠেঘাটে গবেষনা করার অভিজ্ঞতা তো কম হলো না। শুধু দেখি!!

২.

কাজের সূত্রে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক খ্যতিসম্পন্ন মানুষের সাথে কাজ করার ‘সৌভাগ্য’ আমার হয়েছে, যারা কিনা অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ান, রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করেন, নারীর যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তো কেস এর ডিটেইল উল্লেখ না করি। কয়েক বছর আগের একটা হাই প্রোফাইল কেস, রাষ্ট্র ভালই তোলপার হয়েছিল। ঘটনা জানার পরপরই উনি ঘটনাস্থলে যাবেন ৩ জনের দল নিয়ে। আমি সেই ৩ জনের একজন, আমাকে নেয়া হবে কারণ তখন পর্যন্ত কেস ডিটেলস আমিই শুধু জানি। সেই এলাকা খুব প্রভাবশালী মানুষ দিয়ে রেস্ট্রিক্টেড করে দেয়া হয়েছে। তো ঘটনা কি হলো? সেই ‘নারীবাদী’ ব্যক্তি হঠাৎ করেই, আমাকে ডেকে বললেন, আমি যেন না যাই, কারণ আমি সেদিন ফতুয়া আর জিন্স পরে ছিলাম! আমাকে বললেন, আমি যেন ভবিষ্যতে একসেট করে শাড়ি আর সেলোয়ার কামিজ অফিসে রেখে দেই!!! এই তিনিই বহুবার জনসমুক্ষে বলেছেন যে, নারীর পোশাক তার চয়েজ, পোশাক ইনডিভিজ্যুয়াল চয়েজ!! এমনকি ওনার অনেক মন্তব্যে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি যে, উনি রেপ/যৌন হয়রানির জন্য মেয়েদেরই দায়ী করেন!! 

৩.

১৮৮৬ সালে রিচার্ড ভন ক্রাফট তার ‘সাইকোপ্যাথিয়া সেক্সুয়ালিস’ (Psychopathia Sexualis) বইতে প্রিয়াপিজম  এবং মানসিক দূর্বলতাকে পুরুষদের নিয়ন্ত্রন হারানোর জন্য দায়ী করেন! প্রিয়াপিজম হলো যৌন উদ্দীপনা শেষেও যৌনাঙ্গের উত্তেজিত থাকা যেটার কারণে অনিয়ন্ত্রিত কিংবা অত্যাধিক যৌনকামনা থেকে যায়। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে মানুষের যৌনতা নিয়ে বিজ্ঞানের তীক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ শুরু হয়। এই কারণে এই ধরনের ব্যাখ্যাকে গবেষকরা একরকমভাবে সমর্থন করে যান। ব্রিটিশ শারীরতত্ত্ববিদ হ্যাভলক এলিস বিশ্বাস করতেন, পুরুষদের যৌনতা মাত্রই জোরপূর্বক এবং লুন্ঠনের যৌনতা। এই বিশ্বাস ধর্ষণকে পুরুষের সহজাত পৌরুষত্বের উদ্ভাস হিসেবেই স্বীকৃতি দেয়। আমেরিকান জীবতত্ত্ববিদ আলফ্রেড এর মতে ধর্ষণ নাকি কোনো ধরনের ক্ষতি করে না, বরং এখানে ক্ষতির বিষয়টি এক ধরনের অপবাদ! এভাবে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত ধর্ষণের হাইড্রোলিক তত্ত্ব ধর্ষণের শিকার নারীকে দোষারোপ করার দরজা খুলে দেয়। যদি যৌনকামনাই ধর্ষণের কারণ হয়, তাহলে নারী এখানে উত্তেজক বস্তু হিসেবে কাজ করে যা একজন ভালো পুরুষকেও আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে। এই ধারণা অপরাধের শিকারকেই অপরাধী হিসেবে দাঁড় করায়। পুরুষকে দেখা হয় অসহায় একজন মানুষ হিসেবে। যে কিনা একজন নারীকে আঘাত করে, ধস্তাধস্তি করে তাকে মাটিতে ফেলে এবং জোরপূর্বক তার ভেতর যৌনাঙ্গ প্রবেশ করায়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে ফ্রয়েডিয়ানরাও এই ধারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে যে নারীরাই ধর্ষণের প্ররোচনা দেয়। তাদের জল্পনা ছিলো সকল নারীরাই গোপনে ধর্ষিত হওয়ার ফ্যান্টাসিতে ভোগে।  জার্মান মনোবিশ্লেষক কারেন হর্নি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত ‘দ্যা প্রবলেম অব ফেমিনিন মাসোচিজম’ (The Problem of Feminine Masochism) গ্রন্থে বলেন, নারীদের যৌনতা স্বভাবগতভাবেই এক ধরনের আত্ননিগ্রহের যৌনতা।

এই ধারণাগুলোর বিরুদ্ধে প্রথম বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন বিখ্যাত আমেরিকান নারীবাদী লেখিকা সুসান ব্রাউনমিলার। ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত ‘এগেইনস্ট আওয়ার উইল : ম্যান, উইমেন এন্ড রেপ’ (Against Our Will : Men, Women and Rape) বইতে তিনি বলেন, ধর্ষণ সচেতনভাবেই এক ধরনের আতংক ছড়িয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে পুরুষরা নারীদেরকে এক ধরনের ভয়ের ভিতরে রাখতে চায়। ধর্ষণকে যৌন আকাঙ্ক্ষার ফলাফল হিসেবে দাবি করার যুক্তিগুলো তিনি উড়িয়ে দেন এবং একই সাথে এটাকে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ বলে আখ্যা দেন। এরপর কি?? এরপর যেন সময় সেখানেই আটকে রয়েছে!! 

৪.

বাংলাদেশের মানুষরা এখন এই বিশ্বাস থেকে  বের হতে পারেনি। ধর্ষণ যে আবেগতাড়িত কোনো অপরাধ নয়, যেভাবেই ধর্ষণ সংগঠিত হোক না কেন, ধর্ষণ যৌনতার সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং ধর্ষণের সাথে সম্পর্ক ক্ষমতার। কিভাবে? উচ্চ মর্যাদার পুরুষেরা প্রতিবাদ/প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই বলপূর্বক যৌনতা করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশে। তারা জানে যে, সমাজের একটা বড় অংশ তাকে বটবৃক্ষের মতো আগলে রাখবে, এবং তার কিছুই হবে না। বরং উল্টো, হাইড্রোলিক থিউরি মতে, ভুক্তভোগীর অবস্থা শেষ! বাংলাদেশের মি টু আন্দোলন কোনদিন টিকে থাকার কথা ছিল না। টিকেও নাই। কেন? সেই প্রাগৈতিহাসিক থিউরি!!! পলিসি যারা তৈরী করে, তাদের ঘরের পুরুষগুলো কেমন? আবার যারা পলিসি পাস করায়, তাদের স্বামী/সন্তানরা কেন সেই আইন এর ভয় পায় না? গলদ দুই জায়গাতে। মানুষের মনে, বিশ্বাসে আর আইনের প্রয়োগে। আইনের প্রয়োগ থাকলে, ক্ষমতার অপপ্রোয়গ না থাকলে বাংলাদেশে যৌন হয়রানি বা ধর্ষন অনেক আগেই কমে যেতো। কিন্তু সেটা কোনদিন হবে না। কারণ যারা আইনের পলিসি করে বা পাস করে, তারাই নিজের ছেলের এমন অপরাধে নিজেদের ক্ষমতার মাধ্যমে সেই অপরাধকে জায়েজ করে তোলে এবং পরবর্তী অপরাধ করার জন্য সাহসের যোগান দেয়। অন্যদিকে, যারা নারীর জন্য বাংলাদেশে কাজ করেন তারা মনে বিশ্বাস করেন এক আর ফান্ডের জন্য তাদের করতে হয় আরেক। বিশ্বাস ও কাজের এই বৈপরীত্ব তাদের ডিলেমা ছড়ানো আর ‘বাংলাদেশীয় নারীবাদী’ চুলোচুলি করা ছাড়া অন্য কোন কাজে দেয় না। একজন কিভাবে আরেকজনকে অপদস্থ করবে এই বুদ্ধি বের করতে করতেই তাদের সময় চলে যায়। আবার যারা সত্যিই কাজ করতে  চায়, তারা ক্ষমতার দিক থেকে প্রান্তিক, তাদের পথও হাজারগুণ কঠিন। আমি আমাদের প্রজন্মের কোন ‘প্রকৃত’ নারীবাদী দেখি না, না কলমে না কাজে। আমাদের দেশের নারীবাদ ‘ধর্ম’ ও ‘ক্ষমতা’য় আটকে গিয়েছে। বিষয়টা এমন যে,ধরেন যদি হিজাব পরে এমন কেউ উইমেন চ্যাপ্টারে লেখে,তার আক্রমণ নানা দিক থেকে আসবে। একদল ‘নারীবাদী’ বলবে ‘ধর্মীয় পুরুষতান্ত্রিকতা’ থেকে সে বের হতে পারেনি, তার এই পোর্টালে কোন কিছু লেখারই অধিকার নেই; অন্যদল বলবে, হিজাব পরে উইমেন চ্যাপ্টারে লিখে, নারীবাদীদের সাথে গিয়ে জুটছে, হায় হায়, জাত গেল! আরেক দল বলবে, এইসব ভন্ড হিজাবী ধরে এনে উইমেন চ্যাপ্টার ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে!! হলি কাউ!! আরে আসল বিষয়ে ফোকাস করেন রে ভাই। 

এমন অনেক নারীবাদীদের ভাষ্যও শুনেছি, ধর্ষকরা তো মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত, তাদের ফাঁসি দাবী করা ঠিক না!! আপনাদের জন্য বলি, আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী এবং যৌনতত্ত্ববিদ পল গেবহার্ড ১৯৬৫ সালে ‘সেক্স অফেনডারস : অ্যান এনালাইসিস অব টাইপস’ (Sex Offenders: An Analysis of Types) বইয়ে দাবি করেন, বিবাহিত ধর্ষকরাও তাদের স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিক যৌনজীবন সচল রাখে। এই গবেষণাগুলো খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় ধর্ষণের কারণ হিসেবে অধিক বিকারগ্রস্থ যৌনকামনা কিংবা হতাশাকে মোটামুটি বাতিল করে দেয়া হয়েছে অনেক আগেই, কিন্তু তারা পরে আছে সেই আগের জামানায়।

১৯৯০ সালে আমেরিকান লেখক ডায়ানা স্কালি  ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স’ নামে বই  এ তার গবেষনার উল্লেখ করে বলেছিলেন, ধর্ষকরা নিজেদের কৃতকর্মকে ন্যায়সংগত প্রমাণ করার এবং তাদের নৃশংসতাকে লুকানোর চেষ্টা করে। তারা ধর্ষণকে একটি সাধারণ প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।  গবেষণাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো, বেশিরভাগ ধর্ষক মনে করত তাদের কখনো শাস্তি হবে না। একজন ধর্ষকের ভাষ্য এরকম ছিলো যে, ‘আমি জানতাম ধর্ষকের বিরুদ্ধে বেশিরভাগ নারী  মামলা করে না। আমি নিশ্চিত ছিলাম সেও মামলা করবে না’। তো ঘটনা কি দাঁড়ালো? 

তো ভাবছেন, সবই তো বুঝলাম, কিন্তু ওপরের গল্পগুলোর প্রাসঙ্গিকতা কোথায়? খুবই সহজ।জাহাঙ্গীরনগরে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন  করা সেসময়ে সম্ভব হয়েছিল, কারন সবার ‘বিশ্বাস ও করনীয়’- কে সুনির্দিষ্টভাবে একই লেভেলে নেয়া সম্ভব হয়েছিল। নানা মুনির নানা মত হলে যেটা কখনই সম্ভব ছিল না। মানে দাবী আদায়ে আপনি সচেষ্ট, কিন্তু এই সদিচ্ছার চেয়ে মতভিন্নতা বা ক্ষমতায়নকে আপনি বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, তখন কিচ্ছু হবে না। তাই  যারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চান, তাদেরকে নিজেদের বিশ্বাসের জায়গাটিকে পরিপক্ক ও মজবুত করতে হবে। এদেশে এমন রয়েছে যে, আপনি কোন ধর্ষনের প্রতিবাদ করে বিচার চাইলেন, মনে করেন আপনাকে আমার খুবই অপছন্দ। তো কি করবো আমি, আপনার পাশে দাঁড়িয়ে বিচার দাবী না করে, ঘোট পাকিয়ে কিভাবে আপনার কাজটা বানচাল করা যায় সেই মতলব করবো। সেটি করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, ধর্ষককে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দেয়া। ‘ধর্ষণের বিচার চাই’- এই কথাটি বলার জন্যও আমাদের প্রজেক্ট থাকে, ফান্ড থাকে!! যদি ফান্ড থাকে তো রাস্তায় আছি, না থাকলে নাই! এটিই বাস্তবতা। ধর্ষণ অথবা যৌন হয়রানি যে অপরাধ, এই সহজ কথাটিই যখন এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাথায় ঢোকে না অথবা এখানে দোষটা মেয়ের, এটি তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, সেই দেশে আপনি আশা করছেন , ধর্ষণ কমবে, ধর্ষকের শাস্তি হবে!!! হলি কাউ!!

আমার কথা একটাই, যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে ‘ ধর্ষণ করা অপরাধ, ধর্ষিতার এতে কোন দোষ নেই আর আর ধর্ষকের ক্ষমা নেই’ এই মূলমন্ত্রে নিজেদের দীক্ষিত করতে না পারবো, নিজেদের বিশ্বাসের জায়গাকে একই প্ল্যাটফর্মে আনতে না পারবো, ঘাটের মরা বুড়ি থেকে ১ বছরের শিশু কেউ বাদ যাবে না। ভাল কথা, আপনার পুত্র সন্তান বলে কি আপনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন?? ধর্ষিত সবকালেই ছেলেমেয়ে নির্বিশেষেই করা হয়েছে। কাজেই আপনার শিশু পুত্রটিও যে এর কবল থেকে সুরক্ষিত, তা কিন্তু নয়। তাই  ধর্ষক ও ধর্ষণকে জাস্টিফাই করার অভ্যাস বাদ দেন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Create a website or blog at WordPress.com

Up ↑

%d bloggers like this: