ছাত্র-রাজনীতি/ শিক্ষক-রাজনীতি : ’আমজনতা’ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ফ্যাক্ট

আমার ওয়াল, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পত্রিকা ভরে গিয়েছে…ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিতে!!! আপনাদের দাবির বিষয়ে আমি কনফিউজড!! অবস্থা এমন যে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও ছাত্রদের বর্তমান সিচুয়েশন বোঝাটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
আমার প্রশ্ন হলো, আপনি কি মেইনস্ট্রিম এর রাজনীতি আর ছাত্র রাজনীতি- এই দুইয়ের পার্থক্য বুঝতে পারেন? ’রাজনীতি’ বিষয়টি নিয়ে কি আপনার কন্সেপ্ট ক্লিয়ার? নাকি আপনি রাজনীতি বলতে শুধুই আওয়ামীলীগ আর বিএনপি বোঝেন? আপনি কি জানেন যে, মেইনস্ট্রিম রাজনীতি আদতে ছাত্র রাজনীতিকে ভয় পায়? আপনি কি জানেন কেন? ঠিক কোন স্বার্থে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ধোঁয়া ওঠে বুঝতে চেষ্টা করেছেন কখনও?
আচ্ছা, আপনি কেন প্রশ্ন তুলছেন না যে, শিক্ষকরা কেন মূলধারার রাজনীতির সাথে জড়ায়? একজন শিক্ষক নিয়োগ কোন যোগ্যতার ওপর হয় আপনি কি জানেন? মনে করেন, আপনি ভিসি , আপনি কি করবেন, সেইজনকেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিবেন যে কিনা আপনার ব্যাটেল হবে। আপনাকে যখন অন্যেরা গালি দিবে, সেও তখন তাদের পাল্টা গালি দিবে, প্রয়োজনে মারমুখী হবে। এটাই প্রধান যোগ্যতা। প্রমাণ চাইলে তো ভাই দিতে পারবো না। তবে, গ্যারান্টি যে, আপনি নিজে চোখ কান খুললেই জানবেন, বুঝবেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষকেরা স্রেফ ব্যবহার করছে, আর কিছু না। নিজেদের প্রয়োজনে তাদের ব্যাটেল তৈরী করছে, আবার দলগুলো নিজেদের প্রয়োজনে শিক্ষকদের ব্যবহার করছে। পাজরের হাড় দেখছেন না? ঐরকমভাবে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সাথে এমন গিট্টু মেরে লেগে আছে যে, কোন একটা হাড় বের করার চেষ্টা করলেই সাড়ে সব্বনাশ!!
দলীয় ট্যাগধারী শিক্ষার্থী কিংবা ট্যাগ ছাড়া শিক্ষার্থী-উভয়েই কিন্তু ভালনারেবল অবস্থাতে থাকে। কিভাবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কয়েক মাসের ভেতর আপনি বুঝে ও জেনে যাবেন যে, কোন শিক্ষক কোন দলের ট্যাগধারী। তো আপনি যদি ট্যাগধারীর ছাতার নিচে যেতে চান, তখন সমস্যা হবে যে, অন্য দলের ট্যাগধারী শিক্ষকদের কাছে আপনি চিহ্নিত হবে বা টার্গেটে পরিনত হবে। তার ফলাফল হাড়ে হাড়ে টের পাবেন, যদি বাই এনি চান্স তিনি বা তারা কোর্স শুধু হাতে পান আপনার ক্লাসের। অথবা ধরেন আপনি আমজনতা বেআক্কেল শিক্ষার্থী, আরও সহজভাবে বুঝাই। ধরেন আপনি সরল মনে ক্লাস ক্যাপ্টেন, শিক্সকের রুমে কোন কাজে গিয়েছেন এবং আপনি কোন দলীয় ছায়ায় না থেকেও তখন ভিক্টিম হয়ে যাবেন। এবং নিরপেক্ষ অামজনতা শিক্ষার্থীদের অবস্থা তো আরও করুণ। কারণ, তখন তারা সকল ট্যাগধারী শিক্ষকদের সন্দেহের পাত্র। এই শিক্ষক ভাবছেন আপনি বিপক্ষীয় দলের আবার বিপক্ষীয়রাও উল্টো করে ভাবছেন। আপনি ট্যাগধারী হলে কোন নির্দিষ্ট ট্যাগধারী শিক্ষকের কাছ থেকে ভাল নম্বর পেতে পারেন। কিন্তু, যদি খালি আমজনতা হন তো যতই পড়েন, যা রেজাল্ট হবার কথা ছিল আপনার সেটা কোনদিনই হবে না। আপনি নিজ চেষ্টায় যদি ভাল রেজাল্ট করেও ফেলেন, তারপরেও আপনি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন না। কেন? কারণ, তখন আপনাকে ইন্টারভিউ বোর্ডের সকলে ভবিষ্যত থ্রেট হিসেবে দেখবে। নিজেদের সুরক্ষার খাতিরেই আপনি তখন বাতিল মাল। ইন্টারভিউ বোর্ডে খোশ গল্প করে, ছেড়ে দিবে। প্রমাণ চান? আমার নিজের অভিজ্ঞতার কথাই বলছি রে ভাই। কিন্তু এসবের কি আর প্রমাণ হয়?
এত প্যাচাল কেন? কারণ, সিস্টেম আপনাকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকতে দিবে না। সিস্টেমের মোটোই হলো এইটা। আমি শিক্ষার্থীদের দিয়ে উদাহরণ দিলাম। কিন্তু মাইনকা চিপায় শিক্ষকরাও থাকে। আপনি শিক্ষক? আপনার কোন দলীয় ট্যাগ নেই? আপনার তাহলে জীবনে কিছুই নেই। আপনার যোগ্যতা থাকলেও প্রোমোশন নেই, আপনার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাইলেই উপরি ইনকাম নেই, চাইলেই সপ্তাহের যেকোন একদিন অফ নেবার উপায় নেই….. এরকম আরও হাজার হাজার ‘নেই’ দিয়ে আপনারদের জীবন পরিপূর্ণ। মাঝে মাঝে আপনার সত্যির আওয়াজ তুলেন, তারপরে কেউ মারের ভয়ে চুপ মেরে যান, কেউবা মার খেয়ে চুপ মারেন। সত্যির পক্ষে আওয়াজ তুললে আপনারা পাশে পান ৫-৬ জনকে, আর বিপক্ষে পান রাষ্ট্র,দল, প্রতিদিন একসাথে উঠবস করা সহকর্মীদের, তাদের ব্যাটেলদেরকে।
এখন মনে করেন, ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেয়া হলো, তো কি হবে বলে আপনি মনে করছেন? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কি তখন তীর্থ স্থান হয়ে যাবে? আর দলীয় ট্যাগধারী শিক্ষকরা তখন সবাই ধর্মযাজক হয়ে যাবেন? তখন আর কোন শিক্ষার্থী খুন হবে না? কোন শিক্ষক অন্যায়ের বিরুদ্ধে চাইলেই গলা খুলতে পারবেন? দলীয় ট্যাগবিহীণ শিক্ষকদের তখন কি অবস্থার কোন উন্নতি হবে বলেন আপনি ভাবছেন? নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন তো….. সত্যিই কি ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করলেই সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? নাকি আমাদের উচিৎ চোখ বন্ধ করে সিস্টেমের হাতে নিজেদের জীবনকে ‘সম্প্রদান’ করে দেয়া?

Comments are closed.

Create a website or blog at WordPress.com

Up ↑

%d bloggers like this: